ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি হিটু শেখের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার। তবে রায় ঘোষণায় খুশি হলেও ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না তিনি। দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

সোমবার সকালে হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় নিহত আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার এই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে তাদের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ে যেন দণ্ড কার্যকর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জগদিশ অদবকারী বলেন, ‘এই রায়ে আমরা খুশি, তবে আমরা চাই, দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হোক। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার আগে অপরাধীরা ভয় পাবে।’

পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দ্রুত কার্যকর না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই কোনো ধরনের ক্ষমা নয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি তাদের।

স্বজন আকলীমা খাতুন বলেন, ‘আমরা চাই, দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক। যদি দ্রুত কার্যকর না হয়, তাহলে অপরাধ এভাবেই বাড়তে থাকবে। আমরা চাই, এই অপরাধের যেন কোনো ক্ষমা না হয়।’

আছিয়ার মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আছিয়ার মামাকে হাইকোর্ট থেকে ফাঁসির রায় দিয়েছে, এতে আমি খুশি হয়েছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এই ফাঁসির রায় কার্যকর না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট নই। আমি চাই, দ্রুত এই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক।’

হাইকোর্টের রায়ে স্বস্তি ফিরলেও নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অপেক্ষা এখন রায় কার্যকরের। তাদের প্রত্যাশা, সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে দণ্ড কার্যকর করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় আট বছর বয়সী আছিয়া। সেখানে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ আছিয়া মারা যায়।

মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারকাজ শেষ করে ২০২৫ সালের ১৭ মে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই রায়ে অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড বহাল,হিটু শেখ,হত্যা মামলা,আছিয়া ধর্ষণ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত