
বৃদ্ধ বয়সে যেখানে একজন মানুষের নিরাপদ আশ্রয় ও একটু স্বস্তির জীবন পাওয়ার কথা, সেখানে থাকার মতো সামান্য জমিও নেই জোছনা সরকারের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। অভাব-অনটন আর অসহায়ত্বই যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে সত্তরোর্ধ্ব জোছনা সরকারের।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জোছনা সরকার দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নিজের নামে থাকার মতো কোনো জমি না থাকায় অন্যের আশ্রয়ে কিংবা অনিশ্চিত পরিবেশে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে। বয়সের ভারে স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নিয়মিত আয়ের কোনো সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জোছনা সরকারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অনেক দিনই ঠিকমতো খাবার জোটে না। কখনো একবেলা খাবার খেয়ে, আবার কখনো প্রতিবেশী বা পরিচিতজনের সহায়তায় দিন পার করতে হয় তাকে। চিকিৎসা ও ওষুধের প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে সেসবের ব্যবস্থা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জোছনা সরকার বলেন, “৫১ বছর আগে বিধবা হয়ছি। তিন সন্তান নিয়ে পরের বাড়ি, রাজমিস্ত্রীর বাড়িতে এমনকি মন্দিরে প্রসাদ খেয়ে তাদের বড় করছি। এখন তারা যে যার মতো সংসার পেতেছে। তাদেরও সংসারের অবস্থা ভালো না। আমার নিজের বলতে কিছুই নেই। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। খাবার খেতে কোনো মন্দিরে প্রসাদ বা অন্যের দিকে চেয়ে থাকতে হয়। কেউ যদি একটু সাহায্য করতেন, তাহলে জীবনের শেষ দিনগুলো অন্তত একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বর্ণকার ব্যবসায়ী মদন দাস বলেন, অসহায় এই বৃদ্ধার জন্য একটি নিরাপদ ঘর, সামান্য জমি এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তার প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্থানীয়রা।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রকিবুল হাসান বলেন, “জোছনা সরকারের সম্পর্কে আগে জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই বয়সে এসে মৌলিক চাহিদার জন্য সংগ্রাম করছেন। দ্রুত আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।”