
মানিকগঞ্জ পৌরসভার অধীনে অর্ধ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণাধীন আরসিসি সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের বেডে রডের খাঁচা তৈরির সময় নির্ধারিত দূরত্বের চেয়ে বেশি ফাঁকা রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সড়কটির নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার সূর্যমুখী চক্ষু হাসপাতাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পর্যন্ত ২১০ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে এ অভিযোগ উঠেছে।
এডিবি ও এএফডির অর্থায়নে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে এম এ/মুস্তাফিজুর রহমান (জেভি)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেডে রডের খাঁচায় সিডিউল অনুযায়ী এক রড থেকে আরেক রডের দূরত্ব ৮ ইঞ্চি পরপর রাখার কথা। তবে বাস্তবে কোথাও কোথাও এ দূরত্ব ৯ থেকে সাড়ে ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দূরত্বের তুলনায় প্রায় এক থেকে দেড় ইঞ্চি বেশি ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
পৌরবাসী আকরাম হোসেন বলেন, ‘এক রড থেকে আরেক রডের দূরত্ব ৯ থেকে সাড়ে ৯ ইঞ্চি রাখা হয়েছে। এটা সুস্পষ্ট সিডিউলবহির্ভূত কাজ। এ ধরনের অনিয়ম হলে এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পৌর কর্মকর্তাদের নিতে হবে।’
শুকুর আলী বলেন, ‘এভাবে কাজ করা হলে রাস্তাটি অল্পদিনেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রডের দূরত্ব বেশি রাখা হয়েছে, আবার নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি অর্থে যে কাজ হচ্ছে, সেটি নিয়ম মেনে হওয়া দরকার।’
সাহাদুর রহমান বলেন, ‘এক রড থেকে আরেক রডের দূরত্ব বাড়িয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাভবান হচ্ছে। এতে রডের ব্যবহার কমছে। কিন্তু এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পৌরবাসী। রাস্তার স্থায়িত্ব কমে গেলে শেষ পর্যন্ত জনগণের অর্থেই আবার সংস্কার করতে হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হোসেন বলেন, ‘কাজ মিলানোর স্বার্থে কোথাও কোথাও মিস্ত্রিরা ব্যতিক্রম করে থাকতে পারে।’
মানিকগঞ্জ পৌরসভার মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার (এমই) আবুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, ‘বেডের খাঁচায় ৮ ইঞ্চি পরপর এক রড থেকে আরেক রডের দূরত্ব হবে। এর বেশি কোনো ক্রমেই হওয়া যাবে না। আমি এই কাজের দায়িত্বে আছি। আমার কাজে ফাঁকি দেওয়া চলবে না। যেসব জায়গায় অনিয়ম করা হয়েছে, সেসব জায়গায় রডের পরিমাণ হিসাব করে ঠিকাদারকে বিল কম দেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজে কোনো অনিয়ম হলে প্রয়োজনে তা ভেঙে নতুন করে করা হবে।’