ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ

রংপুরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ

‘জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি’—স্লোগানকে সামনে রেখে রংপুর নগরীর টাউন হল চত্বরের বিকন নাট্যকেন্দ্রের হলরুমে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে যুব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডপসের প্রধান নির্বাহী উজ্জল চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনান বেঞ্জু।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রী সাংবাদিক রঞ্জিত দাস, ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস্ট আজমাইল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তা এবং ভুট্টা গাছ থেকে কাঁচামাল তৈরিকারক নুরুল ইসলাম নাঈম, এনজিও প্রতিনিধি জাহিদ আলম জেমস, ইয়ুথ অ্যাক্টিভিস্ট সাবিল খন্দকার, ইউথ ভলান্টিয়ার নাইদ ইসলাম, শিক্ষার্থী সোহানা আক্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের উত্তরের রংপুর অঞ্চল অন্যতম প্রধান কৃষি এলাকা। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ও জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলের ওপর। রংপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি মূলত ভূগর্ভস্থ পানি এবং ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। ঘন ঘন লোডশেডিং ও ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা বলেন, রংপুর অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব। জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য তরুণেরা নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন।

বক্তারা আরও বলেন, চরের কৃষকেরা সমবায় বা কমিউনিটিভিত্তিক সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্রকল্পের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নিতে পারেন। গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে জ্বালানির অপচয় রোধ এবং উন্নত চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমাতে স্থানীয় নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তারা বলেন, রংপুর অঞ্চলে প্রচুর চর ও পতিত জমি রয়েছে। তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বৃহৎ আকারে সোলার পার্ক স্থাপন করা সম্ভব। এছাড়াও কৃষিতে সোলার সেচ পাম্পের ব্যাপক প্রসার ঘটানো যেতে পারে।

বর্তমানে রংপুর অঞ্চলে ২২ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রংপুর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়া এখন সময়ের দাবি।

কাজে লাগানোর তাগিদ,জ্বালানির সম্ভাবনা,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত