ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বীরগঞ্জে আগাম ফুলকপি চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

বীরগঞ্জে আগাম ফুলকপি চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে বাড়তি দামের আশায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯৩ হেক্টর জমিতে। এরই মধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ সম্পন্ন হয়েছে।

গত বছরের একই সময়ে মাত্র ৯২ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করা হয়েছিল। সে তুলনায় এবার আগাম ফুলকপি চাষের পরিধি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

আগাম সবজি হিসেবে ফুলকপি বাজারে তুলতে পারলে বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। সরেজমিন উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর, দলুয়া, পঁচিশ মাইল, ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি ও বটতলী, নিজপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া এবং পল্টাপুর ইউনিয়নের পাল্টাপুরের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে আগাম ফুলকপির সমারোহ। অনেক জমিতে চারা দ্রুত বেড়ে উঠছে। আবার কিছু ক্ষেতে ইতোমধ্যে ফুল আসতে শুরু করেছে।

দলুয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলামের সঠিক নির্দেশনায় তিনি আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে তাঁর ক্ষেতের ফুলকপি বাজারে তোলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

পঁচিশ মাইল এলাকার কৃষক শামীম জানান, চার বিঘা জমিতে বাড়তি শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে তিনি আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। ভালো ফলন হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে পরিমিত সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পোকা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম দলুয়া এলাকায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষের ক্ষেত পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগাম জাতের রত্না, নাসা-৪৫, হোয়াইট মার্বেল ও নিনজা জাতের ফুলকপি চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা বেশ সন্তোষজনক। আবহাওয়া সহনশীল থাকলে ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো হতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে আগাম ফুলকপি বিক্রি করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমের সাফল্য আগামী বছরগুলোতে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে আগাম সবজি চাষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

কৃষক,লাভের স্বপ্ন,ফুলকপি চাষ,বীরগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত