ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

২ বোনকে ভারতে পাচার, অভিযুক্তের ২০ বছরের কারাদণ্ড

২ বোনকে ভারতে পাচার, অভিযুক্তের ২০ বছরের কারাদণ্ড

ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুই বোনকে ভারতে পাচার করে সেখানে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার মামলায় মো. শহীদ শেখ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে মোট ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে পৃথক দুই ধারায় আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত শহীদ শেখ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গজারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। আদালতের রায়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৬ ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ১০ ধারায় আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ জুলাই ফরিদপুরের একটি জুট মিলে কর্মরত ২০ ও ১৮ বছর বয়সী দুই বোনকে উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখান তাদের সহকর্মী শহীদ শেখ। পরে তাদের ভারতে পাচার করে বোম্বে শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই বোনকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় দুই তরুণীর বাবা ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সালথা থানায় শহীদ শেখ ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেন সালথা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর আলী। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ অক্টোবর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, মামলায় শহীদ শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

তবে অপর আসামি শহীদ শেখের স্ত্রীকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট বলেও জানান পিপি।

২০ বছরের কারাদণ্ড,অভিযুক্ত,ভারতে পাচার,২ বোন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত