
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় আইএইএর মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বৈঠকে ‘রেজ অব হোপ: ক্যানসার কেয়ার ফর অল’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএর মহাপরিচালক ও আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এ অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সহজলভ্য, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।