
চাঁদপুর সদর, মতলব দক্ষিণ ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৯ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হাজীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ।
এর আগে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মহামায়া বাজার থেকে কামাল হাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ডিবি পুলিশ কামাল হাজীকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট পরিষদের গ্রাম পুলিশ মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হাজীর নেতৃত্বে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল ইউনিয়ন পরিষদে অনধিকার প্রবেশ করে। তাদের হাতে রামদা, ছেনি, লোহার রড, জিআই পাইপ, শাবল, কুড়াল ও হকিস্টিকসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, কামাল হাজীর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
অন্যদিকে, মতলব দক্ষিণে বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম সেলিম, উপজেলা পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ সাগর, মতলব পৌর যুবলীগের সদস্য মো. অলি উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. কাউসার হোসেন ও মতলব আওয়ামী লীগের সদস্য শাহজালাল।
মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অখিল সরকার বলেন, নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল আলম ওরফে মাসুদ আলম (৪২), রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার কালু (৬৫) এবং তার ভাগনে চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম রহমান ওরফে সৈকত (৩৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহর নির্দেশনায় পুলিশের একাধিক টিম উপজেলার রূপসা উত্তর ও রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নিজ নিজ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে নাশকতার চেষ্টা এবং বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, নাশকতা প্রতিরোধ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।