ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরে যানজট ও ফুটপাত দখলে নাকাল নগরবাসী

রংপুরে যানজট ও ফুটপাত দখলে নাকাল নগরবাসী

তীব্র যানজট ও ফুটপাত দখলের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে রংপুর নগরবাসীর। সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল এবং ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় একদিকে সড়কে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীদের হাঁটার জায়গাটুকুও থাকছে না। ফলে মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৪৫ মিনিটেরও বেশি।

যানজট নিরসন ও নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ কাজ করলেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৭ লাখ ৮ হাজার ৩৮৪ জন মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন এসব মানুষকে তীব্র যানজটের মধ্যে দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময়মতো অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা। একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহনও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে কাচারী বাজার পর্যন্ত প্রায়ই তীব্র যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে অফিসের সময় এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মেডিকেল মোড় এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সিও বাজার এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সময় অতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি হয়।

এদিকে জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে সাতমাথা সড়কের ভঙ্গুর অবস্থার কারণেও প্রায়ই যানজট দেখা দেয়। লালবাগ এলাকায় সড়কের ওপর রিকশা স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সেখানে সবসময় যানজট লেগেই থাকে।

অন্যদিকে নগরীর লালবাগ, জাহাজ কোম্পানি, পায়রা চত্বর, বেতপট্টি, সুপার মার্কেট, সিটি বাজার, মডার্ণ মোড় ও টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ভ্যান দাঁড় করিয়ে এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দেখেও প্রশাসন যেন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

চাকরিজীবী এজাজ রিয়ন বলেন, বাসা থেকে অফিসে যেতে যেখানে মাত্র ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে আধঘণ্টা লেগে যায়। প্রতিদিন অফিসে যেতে দেরি হয়। গত মাসে দেরি করে যাওয়ার কারণে তার তিন দিনের বেতন কেটে নেওয়া হয়েছে।

পায়রা চত্বরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহরে অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া একটি অটোরিকশার লাইসেন্স দিয়ে একাধিক যানবাহন চলছে। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।

কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী সাইয়াদ্বীন জাহিন বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো ফুটপাতে দোকানপাট গড়ে উঠছে। পথচারীরা চলাচল করবে কীভাবে? আবার এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দিলে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা কীভাবে সংসার চালাবেন, সেটিও ভাবতে হবে। এ সমস্যার একটি ভালো সমাধান প্রয়োজন।

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, তীব্র যানজটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা সন্তোষজনক নয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি। একই সঙ্গে হকারদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে তাদের পুনর্বাসন করে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ বলেন, যেসব অটোরিকশার লাইসেন্স নেই, সেগুলো জব্দ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রংপুর নগরীর বাইরে থেকে আসা অটোরিকশা যাতে নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।

নাকাল নগরবাসী,ফুটপাত দখল,রংপুরে যানজট
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত