
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পর্যটন এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় টমটমে থাকা আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চাঁনপুর চা বাগান সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের আলী আজগর খানের ছেলে মোহাদ্দিছ খান (২০) এবং একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী সতং এলাকার শেখ কাইয়ুমের ছেলে শেখ নয়ন মিয়া।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মোহাদ্দিছ খান ও শেখ নয়ন মিয়া একটি মোটরসাইকেলে করে পাইকপাড়া থেকে স্থানীয় রামগঙ্গা পর্যটন এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে চাঁনপুর চা বাগান এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত টমটমের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় বিকট শব্দে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ছিটকে পাকা সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মোহাদ্দিছ ও নয়নের মৃত্যু হয়। একই সময়ে টমটমটি উল্টে গিয়ে ভেতরে থাকা দুই যাত্রী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় চা বাগানের শ্রমিক ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহত দুই যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও টমটম জব্দ করে। দুর্ঘটনার কারণে ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলটি অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে চলছিল। বাঁক বা সরু সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।