
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দিন-রাত সব সময়ই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মশার অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধির ফলে জেলাজুড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ঘরবাড়িতে থাকা দায় হয়ে পড়ে। কয়েল, মশারি কিংবা ইলেকট্রিক ব্যাট ব্যবহার করেও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, মুন্সীগঞ্জ পৌর এলাকার ড্রেন ও নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং মশক নিধনে স্প্রে বা ফগিং মেশিন ব্যবহার করেও মশার উপদ্রব কমানো যাচ্ছে না। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে জানান তারা।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। জ্বর হলেই চিকিৎসকেরা ডেঙ্গুর পরীক্ষা দিচ্ছেন। এতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও মশার উপদ্রব ঠেকানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
মুন্সীগঞ্জ শহরের কাপড় ব্যবসায়ী দিদারুল আলম জানান, মশার কারণে সন্ধ্যার পর দোকানে বসে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতারাও দোকানে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে চান না।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মশার কামড়ে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ও তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ড্রেন ও আশপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করার পাশাপাশি পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সিও মো. তওহিদুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
শহরের জনস্বাস্থ্য রক্ষা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কনজারভেন্সি টিম বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। এক্সকাভেটর (ভেকু) ও পৌরসভার ডাম্প ট্রাকের সাহায্যে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও স্তূপীকৃত জঞ্জাল অপসারণ করা হচ্ছে।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব উপস্থিত থেকে পুরো কাজের তদারকি করছেন। তিনি স্থানীয় নাগরিকদের সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গঠনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কনজারভেন্সি টিম সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে।
পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে এবং শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫৬৬ জন। এ সময়ে ৬৪ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে দুজনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী।