ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

খুলনায় জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

খুলনায় জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. বাহাদুর মুন্সি। এ সময় তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ ইমাম হাসান বাচ্চুর ছেলে সৈয়দ ইস্তিয়াক হাসান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

গত ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাহাদুর মুন্সি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা বাদল হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম টিংকু, হাফিজুর রহমান, মো. ইউনুস ও মো. আলাউদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে বাহাদুর মুন্সি জানান, তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের মো. মোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে। বটিয়াঘাটা উপজেলার ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নের রাঙ্গেমারী মৌজার ২১৬৩ নম্বর দাগের আরএস ৪১১ নম্বর খতিয়ানের আট শতক জমি নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার আবুল হোসেনের কাছ থেকে কিনেছেন।

তিনি জানান, আবুল হোসেন আরএস ৪১১ নম্বর খতিয়ান থেকে পৃথক আরএস ৬০৮৯ নম্বর খতিয়ান তৈরি করে জমিটি ভোগদখলে রাখেন। পরবর্তী সময়ে বিডিএস জরিপে বুজরত ১০৮২৮ নম্বর খতিয়ানের বিডিএস ১৯০৭৩ নম্বর দাগে দখল অনুযায়ী জরিপ করান। এরপর আবুল হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বটিয়াঘাটা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ০৫/২৫ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বাহাদুর মুন্সির কাছে বিক্রি করেন।

বাহাদুর মুন্সি আরও জানান, জমিটি কেনার পর তিনি পৃথক আরএস ২৫/৭৭৬৬ নম্বর খতিয়ানে নামজারি করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। তবে তাকে জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বটিয়াঘাটা থানায় অভিযোগ করা হয়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বটিয়াঘাটা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হতে বলেন। পরে খুলনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০২৬ সালের ২৫ আগস্ট ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমপি-২৩৭/২৬ নম্বর মামলা করা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন ইস্তিয়াক হাসানের মা নাসিমা হাসান। মামলায় বাহাদুর মুন্সিকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এরপর নাসিমা হাসান একই আদালতে এমপি-৫০২/২০২৬ নম্বরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় আরেকটি মামলা করেন। আদালত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মামলাটি নথিভুক্ত করেন। এ মামলায় ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ৩ নম্বর আদেশে জমির দখলসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএসআই (নিঃ) মো. জাকির হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে তিনি বাহাদুর মুন্সি জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনের স্মারক নম্বর ৩৪৫০, তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২৬।

সংবাদ সম্মেলনে বাহাদুর মুন্সি অভিযোগ করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইমাম হাসান বাচ্চুর ছেলে ইস্তিয়াক হাসান তাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এলাকার কয়েকজন ব্যক্তিও তাকে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা যুবদলের সভাপতি নাদিমুজ্জামান জনি এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বাহাদুর মুন্সি।

সংবাদ সম্মেলন,নিরাপত্তা চেয়ে,অভিযোগ,জমি দখল চেষ্টা,খুলনা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত