ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুর না লালমনিরহাট—মাদক নিরাময় কেন্দ্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি চিঠি

রংপুর না লালমনিরহাট—মাদক নিরাময় কেন্দ্র নিয়ে পাল্টাপাল্টি চিঠি

রংপুর বিভাগীয় ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প লালমনিরহাটে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকল্পটি রংপুরেই বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। এর আগে প্রকল্পটি লালমনিরহাটে স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছিলেন।

গত ৬ অক্টোবর রংপুর জেলা পরিষদের প্যাডে লেখা চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে চিঠিটির গ্রহণপত্র প্রতিবেদকের হাতে আসে।

চিঠিতে সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর—এই আটটি জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠিত। ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে এসব জেলার মানুষের যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। এ কারণে বিভাগের বিভিন্ন জেলার রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে রংপুর শহরে আসেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘৭টি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) রংপুর বিভাগের কেন্দ্রটি রংপুর সদর উপজেলার নির্ধারিত মৌজায় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রমও চলমান।

সাইফুল ইসলাম বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ জরুরি। প্রকল্পটি লালমনিরহাটে স্থানান্তর করা হলে বিভাগের দূরবর্তী কয়েকটি জেলার রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসাসেবা নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হবে। এতে তাদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

তাই অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী কেন্দ্রটি রংপুরে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত ২৩ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে রংপুর বিভাগীয় কেন্দ্রের জন্য রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে প্রকল্পটি লালমনিরহাটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তার প্রস্তাবে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের বৈরাগীকুমার মৌজায় ৯ দশমিক ২৯ একর এবং নওদাবস মৌজায় শূন্য দশমিক ৭১ একর জমির কথা উল্লেখ করা হয়।

এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উন্নয়ন-৩ শাখা থেকে পরিকল্পনা বিভাগের ভৌত কাঠামো বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রংপুরে প্রস্তাবিত জমিটি তিন ফসলি হওয়ায় জমির মালিকেরা লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে জমি অধিগ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, লালমনিরহাটে কেন্দ্রটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে, রংপুরের প্রকল্পটি লালমনিরহাটে স্থানান্তরের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে গত ৬ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান রংপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, রংপুর বিভাগীয় শহরটি আট জেলার মানুষের জন্য তুলনামূলক সহজগম্য। অন্যদিকে, লালমনিরহাট বিভাগের এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে কেন্দ্র স্থাপন করা হলে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের মতো দূরবর্তী জেলার রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রংপুরে ইতোমধ্যে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জনস্বার্থ, ভৌগোলিক সুবিধা ও অনুমোদিত ডিপিপি বিবেচনায় কেন্দ্রটি রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজাতেই বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

দুটি ডিও লেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রকল্পটির অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বিভাগীয় পর্যায়ের এই প্রতিষ্ঠান রংপুরে থাকলে বিভাগের আট জেলার মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটি রংপুর বিভাগীয় শহরেই বাস্তবায়ন করা উচিত। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন। রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও প্রকল্পটি রংপুরে রাখার পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রটি রংপুরে স্থাপনের উদ্যোগ নেবে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, প্রকল্পটি লালমনিরহাটে নেওয়ার উদ্যোগ রংপুর বিভাগের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। তার দাবি, বিভাগের সব জেলার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পটি রংপুর মহানগরীতেই বাস্তবায়ন করা উচিত। স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রংপুরবাসী আন্দোলনে নামতে পারেন বলেও তিনি সতর্ক করেন।

পাল্টাপাল্টি চিঠি,মাদক নিরাময় কেন্দ্র,লালমনিরহাট,রংপুর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত