
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অভাবের সংসারে ভরণপোষণের কষ্টে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে নাগেশ্বরী বাসস্ট্যান্ডের একটি চায়ের দোকানে রেখে বাড়িতে ফিরে যান তার বাবা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নাগেশ্বরী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শিশুটির নাম নুরুল ইসলাম। সে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মানিকাজী গ্রামের বাসিন্দা এবং সোনাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম আজিম উদ্দিন ও মায়ের নাম আমেনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাবা আজিম উদ্দিন ছেলেকে নাগেশ্বরী বাসস্ট্যান্ডের একটি চায়ের দোকানে বসিয়ে রেখে বাড়িতে চলে যান। পরে বিষয়টি একই এলাকার এক ব্যক্তির নজরে এলে তিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে মানিকাজী ঘাটপাড় বাজারে আসেন। সেখানে সাবেক ইউপি সদস্য বাবলু মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। এ সময় সেখানে শিশুটির বাবাকেও পাওয়া যায়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে আজিম উদ্দিন জানান, অভাবের সংসারে পাঁচজনের খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। আর্থিক সংকটের কারণে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেই ছেলেকে নাগেশ্বরীতে রেখে এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, শিশুটি কিছুটা চঞ্চল হওয়ায় তাকে সামলাতে পরিবারকে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। অভাবের সংসারে এসব বিষয় নিয়ে শিশুটির মাকেও মানুষের কাছে অপমানিত হতে হয়েছে বলে জানান তারা। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক চাপ ও মানসিক কষ্ট থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন শিশুটির মা-বাবা।
পরে সাবেক ইউপি সদস্য বাবলু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শিশুটিকে তার মা-বাবার হাতে তুলে দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটে শিশুদের যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো জরুরি।