অনলাইন সংস্করণ
২০:৪৯, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গায় রাশিয়ার অর্থায়নে ২ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকায় জমির অপ্রতুলতার কারণে বড় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। বিকল্প হিসেবে পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা বিবেচনা করা যেতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধা থাকায় সেখানে বড় ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সাইলো নির্মাণ করা হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম দেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পরে স্থানীয় বাজারে বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও মজুত থেকে গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রীর মতে, পায়রা বন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গম পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে গম সহজে ও কার্যকরভাবে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান আফরোজা খানম। তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে সাইলো নির্মাণের উপযুক্ত স্থান, অবকাঠামোগত সুবিধা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অ্যানেসতেশিয়া নিমোভা, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।