ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

উখিয়ায় তিন মাসে গ্রেপ্তার ৬০৪, উদ্ধার ৩ লাখ ৩১ হাজার ইয়াবা

উখিয়ায় তিন মাসে গ্রেপ্তার ৬০৪, উদ্ধার ৩ লাখ ৩১ হাজার ইয়াবা

কক্সবাজারের উখিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার যোগদানের পর অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। গত তিন মাসে বিভিন্ন অভিযানে ৬০৪ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাচালানপণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

পাশাপাশি অপহরণ মামলার ১৭ ভিকটিম এবং নিখোঁজসংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে আরও ৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদক কারবারি ৬১ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ২ জন, ১৫১ ধারায় ১২ জন এবং দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ২ জন রয়েছেন। এ ছাড়া নিয়মিত মামলায় ১৮৯ জন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে ২৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ৩২ জনকে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত ৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

অপহরণ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের ক্ষেত্রেও পুলিশের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। তিন মাসে শিশু অপহরণের ১০টি মামলায় ১১ জন এবং ব্যক্তি অপহরণের চারটি মামলায় ৬ জনসহ মোট ১৪টি মামলায় ১৭ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজসংক্রান্ত জিডির ভিত্তিতে আরও ৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা, ১১৮ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ ও ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ৪টি টমটম, একটি সিএনজি ও ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

অস্ত্র উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, একটি একনলা বন্দুক, একটি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি ও একটি ছোরা। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৫৪ বস্তা সার ও ২ হাজার পিস ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানে ১৭টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ।

এদিকে, তিন মাসে উখিয়া থানায় ২৬৩টি জিআর মামলা রুজু হয়েছে। এর বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ২৫৭টি মামলা।

চলতি বছরের ৯ জুলাই উখিয়া থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন মো. আতিকুর রহমান মজুমদার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদক কারবারি, অপরাধী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি থানার সেবা কার্যক্রমে দালালদের প্রভাব বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক নির্মূলে উখিয়া থানা-পুলিশের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান থাকবে।

তিনি জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ইতিমধ্যে উখিয়া থানাকে দালালমুক্ত করা হয়েছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

৩ লাখ ৩১ হাজার ইয়াবা,গ্রেপ্তার ৬০৪,উখিয়া
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত