অনলাইন সংস্করণ
১০:৫৭, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
ফেনীর নুসরাত জাহান হত্যা মামলার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। রায়কে ঘিরে ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহানের বাড়িতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, মামলার বাদী ও নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাঁদের বাড়িতে দুজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। তবে গতকাল রোববার থেকে সেখানে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
হাইকোর্ট বেঞ্চে নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয় ২০ আগস্ট। শুনানি শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন। জানতে চাইলে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, 'আমার মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই ন্যায়বিচার চাই। নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে—এমন প্রত্যাশা করছি।'
তিনি বলেন, 'বাড়িতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে আমরা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নই। কারণ, বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের পরিবারের সদস্যদের বাড়ির বাইরে যেতে হয়।'
নারী ও শিশু নির্যাতন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর মোট ১৭ কার্যদিবস শুনানি হয়েছে।
রায়কে কেন্দ্র করে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে নিহত নুসরাত জাহানের বাড়িতে। গতকাল বিকেলে তোলা
রায়কে কেন্দ্র করে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে নিহত নুসরাত জাহানের বাড়িতে। গতকাল বিকেলে তোলাছবি: প্রথম আলো
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
আলোচিত ওই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।