ঢাকা রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার

হত্যায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার

পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনিকে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে সম্পর্কে নিহত কিশোরীর চাচা।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, শরীফ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, যৌন হয়রানির চেষ্টা ও তাতে নাতনির বাধার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই তিনি জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৬) খুন করে।

গ্রেপ্তার শরীফ ও নিহতরা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ ঘটনায় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। দ্রুত রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ঈশ্বরদীতে সংঘটিত নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পর পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের রাব্বি মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম শরীফ নামে দুজনকে আটক করে থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আটক শরীফ পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের তাগিদে প্রায়শই ঢাকার সাভারে তার বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গেই গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতো। ঘটনার সময়ও জামিলার বাবা বাড়িতে ছিলেন না।

শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে সে জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যায়। সে সময় সুফিয়া বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার নাতনিকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। কিশোরী এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং তাকে চড় মারে। সেখান থেকে শরীফ অপমানিত হয়ে ফিরে আসে।

কয়েকদিন পর গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে শরীফ আবারও জামিলাদের বাড়িতে যায়। এবার দাদি সুফিয়া খাতুন ও নাতনি জামিলার কাছে পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়। তবে সুফিয়া তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার করেন। এতে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শরীফ পাশে পড়ে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করে।

বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার করতে শুরু করে। এতে শরীফ তাকেও একই কুন্নি (রাজমিস্ত্রির প্লাস্টার করার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম) দিয়ে জামিলার মাথায় ও কপালে আঘাত করে। জামিলা মাটিতে পড়ে গেলে শরীফ তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের একটি গম সরিষা ক্ষেতে আইলের দিকে নিয়ে যায়।

মাঝে পুকুরপাড়ে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এরপর গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ সরিষা ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঈশ্বরদী,দাদি-নাতনি হত্যা,আসামি,গ্রেপ্তার,হত্যা,অস্ত্র উদ্ধার
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত