ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিরোধিতা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ'র

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের বিরোধিতা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ'র

ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ প্রত্যাহার চায় দেশের শীর্ষ পোশাক ও নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তৈরি পোশাকশিল্পে মারাত্মক সংকট তৈরি হবে এবং রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন সংগঠন দুটির নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, দেশের স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার প্রধান ও প্রায় একমাত্র ক্রেতা হচ্ছে পোশাক রপ্তানিকারকেরা। অথচ এমন একটি স্পর্শকাতর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পোশাকশিল্পের স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সময় বিজিএমইএর মতামত উপেক্ষা করে কমিশন একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সেলিম রহমান আরও বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সেফগার্ড চুক্তির ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, আমদানিতে সুরক্ষামূলক শুল্ক আরোপের আগে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয় যে স্থানীয় শিল্প গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তার মতে, এভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শুধু অনভিপ্রেতই নয়, নীতিগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ।

দেশীয় সুতাকলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সরকার বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ প্রসঙ্গে সেলিম রহমান বলেন, এই মুহূর্তে স্পিনিং মিলগুলোর জন্য কৃত্রিম শুল্ক সুরক্ষার চেয়ে বেশি প্রয়োজন উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন। সরকার চাইলে সরাসরি প্রণোদনা দিতে পারে কিংবা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে খাতটিকে সহায়তা করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ অবিলম্বে সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পাশাপাশি তারা আরও কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। সেগুলো হলো—

১. বস্ত্র খাতকে সুরক্ষা দিতে আমদানিতে শুল্ক আরোপের পরিবর্তে সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনা প্রদান।

২. গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানির মূল্য যৌক্তিক করা, রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের জন্য করপোরেট কর রেয়াত এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা সহজলভ্য করে স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি শিহাব উদদৌজা চৌধুরী, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজিএমইএ,বিকেএমইএ,সুতা আমদানি,বন্ড সুবিধা,পোশাকশিল্প
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত