ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রাবিতে আরবি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রাবিতে আরবি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর এমপিও নীতিমালার খসড়ায় আরবি প্রভাষক পদে ‘মাস্টার্স’ পাসের বৈষম্যমূলক শর্ত বহাল রাখার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন করেন আরবি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, “ইসলামিক স্টাডিজসহ সকল বিষয়ের প্রভাষক পদের জন্য স্নাতক পাস যথেষ্ট হলেও আরবির জন্য স্নাতকোত্তরের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ডে শিক্ষার্থীরা আরবিতে অনার্স-মাস্টার্স করেও আরবি প্রভাষক পদে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার মতো বৈষম্যমূলক শর্ত খসড়া নীতিমালায় প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। অবিলম্বে এই বৈষম্য প্রত্যাহার করে সকল স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

মানববন্ধনে আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি যে সেক্টরগুলো রয়েছে সেখানে শুধুমাত্র সুপরিকল্পিতভাবে আরবি বিভাগকে অপমান ও বঞ্চিত করার জন্য এই খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের আরবি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সেখানে প্রতিবছর শত শত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়ে ডিগ্রি লাভ করে চলে যায়। কিন্তু বর্তমান এই খসড়া যদি কার্যকর হয়, তাহলে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকার হয়ে বের হবে।

এ সময় বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগে ভর্তি করিয়ে এই বৈষম্য তৈরি করে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা দীপ্ত কণ্ঠে বলতে চাই, আমাদের আরবি বিভাগে পড়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা লাগে, কুরআন, হাদিস ও আরবি গ্রামারের জ্ঞান নিয়ে পড়তে হয়। আমরা আরবি বিভাগে পড়ে যদি মাদ্রাসা প্রভাষক পদে আবেদন করতে না পারি, তাহলে বলতে হয় আমাদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে, আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখা যাবে না। অন্যথায় আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।”

শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আরবি বিভাগের প্রভাষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। এমপিও নীতিমালা গতকাল প্রকাশিত হয়েছে। এই নীতিমালা প্রকাশের পর অনেক ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। আমি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য সংশ্লিষ্ট যত শিক্ষার্থী আছে তাদের সঙ্গে যেন কোনো রকম বৈষম্য না হয়।”

তিনি আরও বলেন, “সকল দিক বিবেচনা করে যেন এর সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে চূড়ান্তভাবে এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। যদি কোনো স্বার্থ চরিতার্থ করার মতো খসড়া প্রকাশ করা হয়, তাহলে ছাত্র সমাজ এমন বৈষম্য মেনে নেবে না। আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই নীতিমালা সম্পূর্ণ সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকাশ করা হবে।”

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আরবি বিভাগে যে কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে, এখানে একজন শিক্ষার্থী অনার্স-মাস্টার্স শেষ করলে আর কোনো কিছু বাকি থাকে না। সেই জায়গায় মাদ্রাসার নিচের এক ডিগ্রিকে যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করা দরকার ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। আবার ইসলামিক স্টাডিজ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও কেন আরবির সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। আমাদের দাবি, পূর্বের নীতিমালা বহাল রাখতে হবে।”

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন,আরবি বিভাগ,রাবি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত