
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করে আঁকা গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট থেকে দোলনচাঁপা হলের সীমানাপ্রাচীরে শিক্ষার্থীদের আঁকা গ্রাফিতিগুলো সম্প্রতি রং করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করলে সারা দেশের মতো নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে এবং ‘রক্তাক্ত জুলাই-আগস্ট’-এর স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা হয়েছিল নানা গ্রাফিতি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সেই গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলে নতুন করে রং করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এমন কি কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিলো যেটা গ্রাফিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল? জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বাউন্ডারি ওয়ালে রং করার জন্য বলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাইম মিনিস্টার এই রাস্তা দিয়ে যেতে পারে, সেজন্য সব পরিষ্কার করে রং করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থাকে যেখানে গ্রাফিতি আছে, সেগুলো আইডেন্টিফাই করে ওনারশিপ নিতে হবে। আমাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এগুলো রং করতে হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক পর কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী জাতীয়ভাবে উদযাপন উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে ত্রিশালে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন।