
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, বারবার পদোন্নতি বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করেও তা বাস্তবায়ন না করায় তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কর্মকর্তারা।
এর আগে, রোববার (২৮ জুন) পদোন্নতি বোর্ড অনুষ্ঠিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, একাধিকবার পদোন্নতি বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা বারবার স্থগিত করা হয়েছে। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। উপাচার্যের বারবার আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা এটিকে ‘প্রতারণার’ শামিল বলে দাবি করেন।
একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং যথাযথ নিয়মে আবেদনও করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পদোন্নতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বোর্ড বসানোর ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এর আগে কর্মবিরতি পালন করা হলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। ২৮ জুন বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি অনুষ্ঠিত হয়নি।
গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আনোয়ার হোসেন বলেন, সর্বশেষ কর্মবিরতির পর ৯ জুন বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে বলে খুদেবার্তার মাধ্যমে জানানো হয়। পরে ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হলেও উপাচার্যের বিদেশ সফরের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ২৮ জুন বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হলেও সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি একটি সভায় রয়েছেন এবং পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে শুধু নিয়োগ নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তবে রেজিস্ট্রারের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা কেবল নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পদোন্নতির ক্ষেত্রে নয়।
কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পদোন্নতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা থেকে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন বারবার পদোন্নতি বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করে আশ্বাস দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করায় তারা প্রতারিত বোধ করছেন।