
ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে তিস্তা নদী। এতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি।
রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর (৫২ দশমিক ২২) দিয়ে প্রবাহিত হয়।
তবে সোমবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ সামান্য কমে গেলেও এখনো বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে যেকোনো সময় পানি আরও বাড়তে পারে।
এর মধ্যে ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদী ভারতের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশের তিস্তায় লাল সতর্কতা জারির খবর পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “আমরা সতর্কতার মধ্যে রয়েছি। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে। নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
পাউবো জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সর্বশেষ ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল, যা পরদিনই নেমে যায়। রোববার সন্ধ্যা থেকে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলা ছাড়াও তিস্তা তীরবর্তী আশপাশের জেলাগুলোর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট এবং ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।
নদী তীরবর্তী সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এলাকার শাজাহান মিয়া বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
ভারী বর্ষণ ও ভারত নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারেজের সব গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তা নদীর পানি রোববার রাতে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে সামান্য কমে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যেকোনো সময় ফের বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের গজলডোবা ব্যারেজ থেকে ধেয়ে আসা পানির ঢল সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী চরসহ সদর উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। বালুচর ও নিম্নাঞ্চলের বাদামক্ষেত, ধানের বীজতলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।
তিস্তাপাড়ের কৃষক তমিজার ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। এতে আমাদের চরের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, শুনছি ভারত পানি ছেড়ে দিয়েছে। এ পানি যদি এভাবে আসতে থাকে, তাহলে চরাঞ্চলের আমন ধানের চারাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও বাদাম, মিষ্টি কুমড়াসহ অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।
তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় বলেন, বন্যা ও ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।