
সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রায় এক বছর পর চার সম্পাদক ও এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব। তবে অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটি এখনো নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।
গত ১১ জুলাই মতিহার থানায় করা এ মামলায় রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি মারুফ হোসেন মিশনসহ চারটি গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযোগকারী এক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট দপ্তরে জব্দ থাকা একটি ফুডকার্ট প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং ২০২৬ সালে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হাসিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে তিনি মামলা করেন।
তবে ফুডকার্ট-সংক্রান্ত ঘটনায় হাসিবের নিজের হাতে লেখা আবেদনপত্র এবং ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিবাদী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, “যে দুটি সংবাদকে কেন্দ্র করে মামলা করা হয়েছে, সেগুলো ২০-২৫ জন সাংবাদিক প্রকাশ করেছিলেন। অথচ মামলা করা হয়েছে শুধু আমার বিরুদ্ধে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা। প্রকাশিত সংবাদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য-প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে হাসিবুল ইসলাম বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ফুডকার্টের মালিককে সহায়তা করতেই আমি আবেদন করেছিলাম। আর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও ভিত্তিহীন।”
মতিহার থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “মামলার বিষয়টি হাসিব আগে জানিয়েছিল। আমরা তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলা করতে বলিনি। বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”