ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি, রাবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি, রাবিতে শিবিরের বিক্ষোভ

২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে মেধাকে অবমূল্যায়ন করে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো টাই নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৮টায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিবাদে শাখা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ডে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের চিত্র ফুটে উঠেছে। সে সময় কীভাবে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে, ছাত্রদলের নেতাদের কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেই ইতিহাস আমাদের জানা আছে। একেকটি নিয়োগে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হতো।

এমনকি গভর্নিং বডির সভাপতি নিজ মেয়ের বিয়ের জন্য হবু জামাইকে চাকরি দেওয়ার ঘটনাও আমরা শুনেছি।

শিবির সভাপতি আরও বলেন, তারেক রহমানকে বলতে চাই, এ সিদ্ধান্ত থেকে আপনাকে সরে আসতে হবে। সরকার যদি শিক্ষার্থীদের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে।

ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সন্ধ্যার পর থেকে দেখছি, এই নিউজকে গুজব বলে আন্দোলনকে নস্যাৎ করার পরিকল্পনা করছে তারা। আমরা দেখেছি, ছাত্রলীগও এভাবে বিভিন্ন ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করত। বিএনপির বিভিন্ন অপশাসন ও জুলুমের বিরুদ্ধে তারা সবসময় নীরব। ছাত্রদল যদি এভাবে সরকারের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে, পেটুয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে, তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদেরও ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করবে।

এ সময় মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, ক্ষমতার মসনদে যারা বসে আছেন, তাদের একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। জুলাইয়ের যে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, তার যাত্রা এই লাইব্রেরির প্রধান ফটক থেকে শুরু হয়ে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক প্রতিটি শিক্ষার্থী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আজ কোটার ইস্যুতে, বৈষম্যের ইস্যুতে, শিক্ষা নিয়ে তালবাহানার ইস্যুতে শুধু ছাত্রশিবির নয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর হিসেবে আমরা ভূমিকা রাখতে চাই।

তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্ট নিয়ে আপনারা খেলার চেষ্টা করবেন না। শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলার কারণেই হাসিনা আজ দিল্লিতে বসে আছেন। সুতরাং শিক্ষার্থীদের সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে গিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিয়ে তালবাহানা করে বর্তমান প্রশাসন ও সরকার কোনো ধরনের নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে না, এমনটাই অনুরোধ জানাই।

বিক্ষোভ মিছিলটি জোহা চত্বর থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছাড়াও বিভিন্ন হল ও ইউনিটের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শিবিরের বিক্ষোভ,রাবি,সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি,শিক্ষক নিয়োগ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত