ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলছেন শিক্ষামন্ত্রী, নথি বলছে ভিন্নকথা

শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলছেন শিক্ষামন্ত্রী, নথি বলছে ভিন্নকথা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর সরাসরি সুপারিশ ব্যবস্থা বাতিল করে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— এমন তথ্য উঠে এসেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সভার কার্যবিবরণীতে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক নিবন্ধনপ্রত্যাশী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে যাবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রীর বরাতে এসব কথা জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

ফেসবুক পোস্টে আরও বল হয়, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

যদিও তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছিল ওই সভায়।

সভার একটি কার্যবিবরণী জাগো নিউজের হাতে এসেছে। সেখান থেকে জানা যায়, সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় অবহিত করেন, ২০০৫ সালের ১ নম্বর আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

কার্যবিবরণী সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।’

সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের নির্দেশনার বিষয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা জগন্নাথ রাজশাহী চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন।

পাশাপাশি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত, এনসিপি, ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটও সারাদেশে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়ে তীব্র আন্দোলনে নার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আবা/এসআর/২৬

শিক্ষক নিয়োগ,নথি,শিক্ষামন্ত্রী
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত