ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি, ব্যতিক্রম বেরোবি

দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি, ব্যতিক্রম বেরোবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) প্রায় আড়াই বছর ধরে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) পদটি শূন্য রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনার চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে পদটিতে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত।

শুধু উপ-উপাচার্য নয়, প্রায় দুই বছর ট্রেজারার পদও শূন্য থাকার পর নতুন ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলেও নিয়োগের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের ১০ মার্চ জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর ধরে পদটি শূন্য রয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯-এর ১২(১) ধারায় বলা হয়েছে, আচার্য প্রয়োজনবোধে তাঁর নির্ধারিত শর্তে চার বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপককে উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানান, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় উপ-উপাচার্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, একাডেমিক কার্যক্রমের তদারকি, বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটির সমন্বয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকায় এসব দায়িত্বের বড় অংশ উপাচার্য ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এদিকে প্রায় দুই বছর ট্রেজারার পদ শূন্য থাকার পর গত ২৩ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেরোবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।

বেরোবির সর্বশেষ ট্রেজারার ছিলেন অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমদ। তিনি ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে প্রায় দুই বছর পদটি শূন্য ছিল। নতুন ট্রেজারার নিয়োগের পরও তাঁর যোগদান না করায় বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা উপ-উপাচার্য পদে দ্রুত যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। একই সঙ্গে নতুন ট্রেজারার দায়িত্ব গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

যোগদানের বিষয়ে নতুন ট্রেজারার ড. আবু হানিফ সরকার বলেন, ‘আমি তো যোগদানের জন্য প্রস্তুতই ছিলাম। তবে বিভিন্ন কারণে আমি যোগদান করতে পারছি না। আর এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা হয়তো সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘এটি আমার হাতে নয়। এসব নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি দেন।’

ব্যতিক্রম বেরোবি,প্রো-ভিসি,অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত