অনলাইন সংস্করণ
১২:৫২, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রদত্ত ২০ দফা পরিকল্পনা সমর্থন করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৩টি সদস্য দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কোনো দেশ বিরোধিতা না করলেও রাশিয়া ও চীন ভোটদানে অংশগ্রহণ করেনি। তবে গাজার শাসকদল হামাস এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবি পূরণ করছে না এবং গাজায় ‘আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে’, যা তারা মেনে নেবে না।
খসড়া অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) হামাসসহ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করবে, বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেবে এবং মানবিক সহায়তার রুটগুলো নিরাপদ রাখবে। আইএসএফ ইসরায়েল ও মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং গাজায় নতুন প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশ গঠন করবে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, আইএসএফ’র কাজ হবে এলাকা সুরক্ষিত রাখা, গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা, সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা, অস্ত্র অপসারণ এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা পরিকল্পনায় গাজাকে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসমুক্ত করা, মানুষের কল্যাণে পুনর্গঠন, যুদ্ধে দ্রুত অবসান, জিম্মি মুক্তি এবং মানবিক সহায়তার প্রবেশ সহজ করা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া গাজা অস্থায়ীভাবে একটি টেকনোক্র্যাট ও অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ এই কমিটির ওপর নজরদারি করবে।
পরিকল্পনায় গাজার অর্থনীতি পুনর্গঠন, আধুনিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিও উল্লেখ করা হয়েছে। আইএসএফ দীর্ঘমেয়াদে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ইসরাইল সীমান্তে সহযোগিতা করবে। হামাস বা অন্যান্য গোষ্ঠী গাজার প্রশাসনে অংশগ্রহণ করবে না।
পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের স্ব-নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য পথ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য রাজনৈতিক সংলাপও শুরু করবে।