ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

যুদ্ধবিরতির সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি অভিযান, ৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

যুদ্ধবিরতির সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি অভিযান, ৪ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

চুক্তিবদ্ধ ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। এর ফলে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়ছেন ফিলিস্তিনিরা।

গতকাল সোমবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজায় সক্রিয় একটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী জানায়, তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আরেক ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ গাজার বানি সুহেইলা শহরে “ইয়েলো লাইন”-এর বাইরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি পুরুষ নিহত হন।

এদিকে গাজা সিটির উত্তরাংশে ইসরায়েলি বাহিনীর রেখে যাওয়া বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। এতে আরও কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা সংকটজনক।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার তারেক আবু আজজুম জানান, সারাদিনজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল—উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় গোলাবর্ষণ, বিমান হামলা এবং হেলিকপ্টার হামলার খবর পাওয়া গেছে।

বেইত লাহিয়ায় “ইয়েলো লাইন”-এর বাইরের এলাকাগুলোতেও ইসরায়েলি গুলি বর্ষণ হয়। দক্ষিণে রাফাহর উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং খান ইউনুসের উপকণ্ঠে ট্যাংক ও হেলিকপ্টারের হামলা চালানো হয়।

“ইয়েলো লাইন অতিক্রম করে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় গাজার পূর্বাঞ্চলের পাড়াগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে,” বলেন আবু আজজুম।

পরিবারগুলোর কাছ থেকে সংগৃহীত সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি জানান, এটা গাজার পাড়া-মহল্লা ধ্বংস করে সেখানে বাফার জোন তৈরি করার “পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা”, যা এলাকাগুলোকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে এবং বাসিন্দাদের ফেরত যাওয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

গাজার কেন্দ্রীয় অংশে, পুলিশের ও রেড ক্রসের সহায়তায় সিভিল ডিফেন্স দল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি আগের এক হামলায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা একই পরিবারের আট সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

গাজা সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা এখন ৫৮২–এ পৌঁছেছে, আর এখনও ৯ হাজার ৫০০–র বেশি ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন।

ইসরায়েল,যুদ্ধবিরতি,গাজা,অভিযান,ফিলিস্তিনি,হত্যা,নিহত
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত