ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ জানালো বাংলাদেশ

পাকিস্তান থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ জানালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হাতে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেছে ঢাকা। ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে জেএফ-১৭ ‘থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

বৈঠকে শুধু যুদ্ধবিমান ক্রয় নয়, বরং প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, পুরোনো বহরের রক্ষণাবেক্ষণ, রাডার ও আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের বরাতে জানা যায়, জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের বিমানবাহিনীর প্রধানরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই বহুমুখী যুদ্ধবিমান ২০১৯ ও ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে দুই দফা সামরিক সংঘাতে এর যুদ্ধক্ষমতা প্রমাণ করেছে।

আইএসপিআরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদ সফরে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বৈঠকে অপারেশনাল সহযোগিতা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এই সফরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বৈঠকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বুনিয়াদি থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্স পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ করা হবে এবং এর সঙ্গে থাকবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ব্যবস্থা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং তাদের অপারেশনাল দক্ষতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণের বিষয়ে সহায়তা চান।

এছাড়া জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয় নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সফরকালে প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনাও পরিদর্শন করে।

আইএসপিআর জানায়, এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সামনে এনেছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রসঙ্গত, জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ওজনে তুলনামূলকভাবে হালকা এবং দিন-রাতে ও সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলা চালাতে সক্ষম। পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স এবং চীনের চেঙডু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই যুদ্ধবিমানকে সামরিক পরিভাষায় মাল্টি-রোল ফাইটার জেট বলা হয়। আকাশে ডগফাইট, শত্রুপক্ষের আকাশসীমায় প্রবেশ করে হামলা, মাটির কাছাকাছি নেমে বোমাবর্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ একাধিক সক্ষমতা রয়েছে এই বিমানের।

৬ হাজার ৪১১ কেজি ওজনের জেএফ-১৭ থান্ডার টেকঅফের সময় সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৭০০ কেজি বহন করতে পারে। যুদ্ধবিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২ হাজার ২০৫ কিলোমিটার এবং এটি সর্বশেষ প্রযুক্তির অস্ত্র বহনে সক্ষম।

আগ্রহ জানালো বাংলাদেশ,অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে,পাকিস্তান থেকে
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত