ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভেনেজুয়েলায় শান্তিতে নোবেল পাওয়ার মতো কাজ করেছেন ট্রাম্প: মাচাদো

ভেনেজুয়েলায় শান্তিতে নোবেল পাওয়ার মতো কাজ করেছেন ট্রাম্প: মাচাদো

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তাঁর মতে, এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রমাণ করেছেন যে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের যোগ্য।

কারাকাসের স্থানীয় সময় সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের সঞ্চালক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মাচাদো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে একে ‘মানবতার জন্য একটি বিরাট পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এর আগে গত শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয় মার্কিন সরকার।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, এর সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি যে নজির তৈরি করতে পারে—তা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে।

রাশিয়া এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, সেগুলোর কোনো বৈধতা নেই। একই সঙ্গে চীন এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও ‘গুন্ডামি’ আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপের জন্য আমরা কতটা কৃতজ্ঞ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।” তাঁর দাবি, এই অভিযানের মধ্য দিয়েই ট্রাম্প বিশ্বের সামনে তাঁর শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন মাচাদো। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা খুব কাছেই। শিগগিরই আমরা আমাদের মাতৃভূমিতে তা উদ্‌যাপন করব।”

সাক্ষাৎকারে মাচাদো অভিযোগ করেন, নিকোলাস মাদুরো সম্পূর্ণভাবে ভেনেজুয়েলার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েক মাস ধরে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজের প্রতিও অনাস্থা প্রকাশ করেন মাচাদো। সোমবার ভেনেজুয়েলায় ১৪ জন সাংবাদিক আটকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেলসি রদ্রিগেজের ওপর আস্থা রাখা যায় না এবং ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অবশ্যই এগিয়ে নিতে হবে।

৫৮ বছর বয়সী মারিয়া কোরিনা মাচাদো দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের কট্টর সমালোচক। তাঁকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি নিজের পরিবর্তে প্রার্থী হওয়া এদমুন্দো গোনসালেসের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালান। নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদুরোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও ভোটকেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যে গোনসালেসের বড় ব্যবধানে জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

মাদুরো সরকারের সমালোচনার কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তারের হুমকি পান মাচাদো। সে কারণে তিন সন্তানের মা এই বিরোধী নেতা গত বছরের বেশির ভাগ সময় আত্মগোপনে কাটান। নিরাপত্তার জন্য তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে দেন এবং প্রায় দুই বছর তাঁদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি।

ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নোবেল কমিটি জানায়, স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণের সংগ্রামের জন্যই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।

পুরস্কার গ্রহণ করতে নরওয়ে যাত্রার সময় তাঁর অভিজ্ঞতাও ছিল নাটকীয়। ছদ্মবেশে ১০টি সেনা তল্লাশিচৌকি পার হয়ে তিনি উপকূলীয় একটি জেলেপাড়া থেকে কাঠের ডিঙিনৌকায় করে দেশ ছাড়েন।

মাচাদো,ভেনেজুয়েলা,নোবেল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত