অনলাইন সংস্করণ
২১:৪৭, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার অনেকবার দেখা হয়েছে। খুব বিপদ এবং সংকটের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাস্যজ্জ্বল এবং আন্তরিক। খুবই অমায়িক প্রকৃতির মানুষ। তিনি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। একজন নারী হিসেবে বাংলাদেশকে খালেদা জিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা এশিয়া উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তার লিগ্যাসি স্মরণে রাখবে মানুষ।’
বার্নিকাট আরও বলেন, ‘বহু নির্যাতন সহ্য করেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো অভিযোগ করেননি। সকালের নাস্তা কিংবা রমজানের ইফতার- সব আয়োজনে তার অতিথিপরায়ণতা ও হৃদ্যতা মুগ্ধ করত সবাইকে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী তার ফেসবুক পেইজে অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পোস্ট করে এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অন্যকে সম্মান দিয়ে নিজেও সম্মানিত হতেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি অন্যদের খোঁজখবর নিতেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি (খালেদা জিয়া) সবসময় আমার প্রতি আন্তরিক ছিলেন এবং যখনই চেয়েছি তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।’
মোজেনা আরও বলেন, ‘অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে সংগ্রাম করে গেছেন খালেদা জিয়া। অন্যরা যখন কষ্টে হাল ছেড়ে দিয়েছে, তিনি কখনো তা করেননি। কখনো প্রশ্ন করেননি- কেন আমাকে এ ধরনের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে? তিনি ছিলেন উন্মুক্ত এবং উদার হৃদয়ের মানুষ।’
যুক্তরাষ্ট্রের শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ওয়াশিংটনের কূটনীতিক, সাংবাদিক ও নীতি নির্ধারকরা।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা তার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সদস্য ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর আয়োজিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ১১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্ক শেফ, এপি’র সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ড, স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো স্টিভ রোজ, ভয়েস আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা ও আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এহতেশামুল হক।