অনলাইন সংস্করণ
১১:৪৫, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরানে বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট জানান, প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে। তিনি বলেন, এই বিক্ষোভকারীদের আজ (বুধবার) ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপের জেরে ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন তিনি।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসীন হওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার তাদের শাসনামলের ৪৭ বছরে এত বড় মাত্রার বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে কখনো পড়েনি।
এই আন্দোলন ও বিক্ষোভের প্রাথমিক কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। বছরের পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমসিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। দিন যত গড়িয়েছে, আন্দোলনের তীব্রতাও তত বেড়েছে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সরকার। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।