
লেবাননের বেকা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ নেতাসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা পূর্ব লেবাননের বালবেক এলাকায় হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পূর্ব লেবাননে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী হামলা, যা গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের বেশ কয়েকজন ‘সন্ত্রাসীকে’ নির্মূল করেছে। তাদের দাবি, ওই কমান্ড সেন্টারগুলো থেকে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা এবং শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছিল। তবে এ হামলায় জ্যেষ্ঠ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেকা উপত্যকার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরের কাছে অবস্থিত আইন আল-হিলওয়েহ ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সেখানে হামাসের একটি কমান্ড সেন্টার ছিল। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থানটি শিবিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জয়েন্ট সিকিউরিটি ফোর্স-এর কার্যালয় ছিল।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে তিনি একে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং জাতিসংঘ অঙ্গীকারের ‘নতুন লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই উত্তেজনা প্রশমিত করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪ সালে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকেই দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। লেবাননের নেতারা সতর্ক করেছে বলেছেন যে, দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এ ধরনের বড় হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
আবা/এসআর/২৫