অনলাইন সংস্করণ
১২:৪৭, ১০ এপ্রিল, ২০২৬
জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি অস্বীকার করেছেন সেই গুজবও, যেখানে বলা হয় এপস্টেইনই তার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এ ধরনের প্রচারণাকে তিনি নিজের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে চালানো বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেলানিয়া বলেন, তার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে যেসব দাবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর ‘এখনই অবসান হওয়া প্রয়োজন’।
তিনি জানান, তিনি কখনোই এপস্টেইনের ‘ভুক্তভোগী’ ছিলেন না এবং ২০০০ সালে কেবল একবারই তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।
মেলানিয়া আরও বলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তার ভাষায়, “আমি কোনোভাবেই এর সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এর অংশও ছিলাম না।”
একই অনুষ্ঠানে তিনি আকস্মিকভাবে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের বিষয়ে কংগ্রেসে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজনের আহ্বান জানান। কেন তিনি এমন প্রস্তাব দিলেন, তা স্পষ্ট না হলেও তিনি বলেন, সত্য উদঘাটনের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।
এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়টিও অস্বীকার করেন মেলানিয়া। ২০০২ সালের একটি ইমেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল কেবল ভদ্রতাসূচক যোগাযোগ।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং তাদের সাক্ষ্য কংগ্রেসের নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
মেলানিয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন। তবে তিনি বলেন, অভিযোগ মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়—স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই সত্য নির্ধারণ হওয়া উচিত।
বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই স্থান ত্যাগ করেন তিনি।
এদিকে, কংগ্রেসে প্রকাশ্য শুনানির আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া। তিনি কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার-এর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, এপস্টেইনের অভিযোগকারীদের কয়েকজন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের মতে, আরও সাক্ষ্যের আহ্বান জানানো দায়িত্ব এড়ানোর শামিল।
এর আগে মেলানিয়ার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় আইনি বিরোধও হয়েছে। লেখক মাইকেল উলফ-এর সঙ্গেও এ নিয়ে তাঁর আইনি লড়াই চলছে।
মেলানিয়া বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং নিজের সুনাম রক্ষায় কোনো ছাড় দেবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, ফার্স্ট লেডির এই বক্তব্য এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত ও নথি প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসবে।