অনলাইন সংস্করণ
১৪:২৮, ০৭ জুলাই, ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য ও বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হওয়া শোকার্ত পুণ্যার্থীদের সেবায় দিনরাত কাজ করছেন হাজারো স্বেচ্ছাসেবী। যুদ্ধ ও প্রিয়নেতাকে হারানোর ক্ষত ভুলে ইরানিরা প্রদর্শন করছেন অনন্য জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের নজির।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, সেনাসদস্য ও ধর্মীয় শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
এই বিশাল সংখ্যক শোকার্ত মানুষের সেবায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেন শত শত স্বেচ্ছাসেবী ও দাতব্য সংস্থা। তেহরানের বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান নেওয়া পুণ্যার্থীদের জন্য দিনরাত চলছে খাবার ও পানীয় তৈরির কাজ।
এছাড়াও, প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও রাতে হাজার হাজার মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুত করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা, যার সম্পূর্ণ খরচ আসছে সাধারণ মানুষের অনুদান থেকে। মনের ভেতর গভীর ক্ষত ও শোক চেপে রেখে আগত অতিথিদের দেখভালে নিরলস পরিশ্রম করছেন এই যুবকেরা।
এর আগে, শোকার্ত মানুষের ক্লান্তি দূর করতে তেহরানের রাস্তায় বসে অনন্য এক সেবার পসরা। গভীর রাত পর্যন্ত মোড়ে মোড়ে স্টল বসিয়ে পুণ্যার্থীদের হাতে গরম চা ও বিস্কুট তুলে দেন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী ও দাতব্য সংস্থার কর্মীরা। ইমাম হোসেন চ্যারিটির মতো নানা সামাজিক সংগঠন সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই চায়ের স্টলগুলো পরিচালনা করছে।
চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও দাতব্য কর্মীরা মেতে ওঠেন নানা আলাপে, যেখানে উঠে আসছে সদ্য সমাপ্ত যুদ্ধের কঠিন দিনগুলোর অভিজ্ঞতা। রমজান মাসের পবিত্র দিনগুলোতে যুদ্ধের তীব্রতার কারণে কীভাবে তাদের ফ্রি ইফতার কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন তারা।