অনলাইন সংস্করণ
২০:৪০, ২০ আগস্ট, ২০২৬
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯৭% শতাংশ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে মাত্র ৩% শতাংশ জমি চাষাবাদের উপযোগী বা কৃষকদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং জাতিসংঘ স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনএসএটি)-এর যৌথ পরিচালনায় প্রকাশিত এই মূল্যায়নে দেখা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের মূল্যায়নের তুলনায় বর্তমানে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ এক- চতুর্থাংশের (২৫%) চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
মঙ্গলবার 'ইউএন নিউজ'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এফএও জানায়, তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' (হলুদ রেখা) প্রসারিত হওয়ার কারণে কৃষকরা তাদের নিজেদের জমিতে যাওয়ার অধিকার হারাচ্ছেন। এই ইয়েলো লাইনের কারণে গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৫% শতাংশ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সরাসরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
এই মূল্যায়নে আরও দেখা গেছে, গাজায় গ্রিনহাউস পদ্ধতি বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসল ফলানোর এলাকার পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যার মধ্যে দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি হ্রাস রেকর্ড করা হয়েছে।
এফএও-এর জরুরি পরিস্থিতি সংক্রান্ত কার্যালয়ের পরিচালক রেইন পলসেন বলেন, এই তথ্যগুলো গাজার কৃষি খাতের ক্রমাগত অবনতিকেই সামনে নিয়ে আসছে। জমিতে প্রবেশাধিকার কমে যাওয়ায় এমনকি যেসব এলাকার কৃষি সম্পদ এখনো অক্ষত রয়েছে, সেখানেও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বীজ, সার, সেচ সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং অন্যান্য উৎপাদন সামগ্রীর তীব্র সংকটের পাশাপাশি এগুলোর প্রবেশ ও বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
এফএও উল্লেখ করে, গাজার পশুপালকরাও পশুখাদ্য, ভেটেরিনারি সামগ্রী এবং পশুপালনের স্বাস্থ্যসেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে যা-ও দু-একটি কৃষি উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর মান যেমন নিম্নমানের, তেমনি সাধারণ কৃষক পরিবারের জন্য তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
কৃষি উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করতে এফএও জরুরি ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের তাদের নিজেদের জমিতে নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া, জরুরি কৃষি সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পুনর্বাসন করা।
ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজার কৃষি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি, গ্রিনহাউস, পানির কূপ এবং সেচ ব্যবস্থার বিনাশ। এর ফলে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে গেছে, অন্যদিকে কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।