অনলাইন সংস্করণ
১৪:৩৪, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছেন নেতানিয়াহু নিজেই। তবে কথিত এই হত্যাচেষ্টাটি কখন ঘটেছিল, তার কোন ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিংবা হামলাটি কতটা এগিয়েছিল---এসব বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। দেশটির জাতীয় নির্বাচনের দুই মাস আগে এক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বিষয়টি সামনে আনেন।
নেতানিয়াহু বলেন, 'আমার ছেলেদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশ অবিশ্বাস্য। হ্যাঁ, ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্য করেছিল। ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তাই এই নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়।'
তবে কথিত হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। কোন ছেলেকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, ঘটনাটি কখন ঘটেছিল কিংবা হত্যাচেষ্টা কতটা সফল হওয়ার কাছাকাছি গিয়েছিল---এসবও স্পষ্ট করেননি তিনি।
নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস করেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী তার কোন ছেলের কথা বলেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।
এ বিষয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহু আরও জানান, তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, শিন বেতের প্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তাকে হত্যার কোনো ষড়যন্ত্রের তথ্য নেই।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দল সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। তবে ইসরায়েলে সাধারণত কোনো একক দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে না; একাধিক দলের জোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ওই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন।