ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইসরাইলকে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা সরবরাহের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরাইলকে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা সরবরাহের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

কয়েক বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের কাছে দুই হাজার পাউন্ডের বোমা সরবরাহ করার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ভারী অস্ত্রের বিতর্কিত চালান হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্যটি জানিয়েছেন। ২.৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) ডলারের এ অস্ত্র প্যাকেজটি কেনা হবে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে। এতে মোট ৪০ হাজার বোমা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার প্রতিটি বোমা ২,০০০ পাউন্ড ওজনের।

অস্ত্রের তালিকায় থাকছে ২০,০০০টি ‘এমকে-৮৪’ এবং ২০,০০০টি ‘বিএলইউ-১১৭’ বোমা। এছাড়া ২০,০০০টি ‘আই-২০০০ পেনোট্রেটর’ ওয়ারহেডও দেয়া হচ্ছে এই চুক্তির আওতায়।

পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মধ্যে ‘এমকে-৮৪’ সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। এর একটি বিস্ফোরণে প্রায় কয়েক হাজার ফুট পর্যন্ত ধাতব টুকরো দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। ভারী কংক্রিট ও ধাতব কাঠামো মুহূর্তেই ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মাটিতে বিশালাকার গর্ত তৈরি করতে পারে এ অস্ত্র।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কমিটিগুলোকে চুক্তিটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ইস্যুতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের মধ্যে নজিরবিহীন টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

মানবাধিকার বা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার ঝুঁকির প্রশ্নে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘সব ধরণের বিদেশি অস্ত্র বিক্রির কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে প্রক্রিয়াধীন কোনো চুক্তির বিষয়ে আমরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করব না।’ ওয়াশিংটনের ইসরাইলি দূতাবাসও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এ অস্ত্র বিক্রির বহর বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালে কংগ্রেসের সাধারণ পর্যালোচনা এড়িয়ে ইসরাইলের সঙ্গে করা ট্রাম্পের ২০৪ কোটি ডলারের বিতর্কিত চুক্তিটির চেয়েও এটি আকারে বড়।

গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী কয়েকশবার এ দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গাজায় ইসরাইল কর্তৃক ঘোষিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’-এ এই এমকে-৮৪ বোমা ফেলার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ট্র্যাভর বল বলেন, ‘ইসরাইলি বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ভবনকে লক্ষ্যবস্তু বানালে তারা এ ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কোনো ভবনে হিযবুল্লাহ বা অন্য কোনো লক্ষ্যবস্তু থাকলে একটি এমকে-৮৪ বোমা পুরো ভবনটিই গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’

প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন পাইলটদের কাছে 'দ্য হ্যামার' বা 'হাতুড়ি' নামে পরিচিত এ অস্ত্রটি বাইডেন প্রশাসন সাময়িকভাবে পাঠানো বন্ধ রেখেছিল। গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষার কথা ভেবে ২০২৪ সালে এর একটি চালান স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরেই এ নীতি বাতিল করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক সংকটে কাজ করা দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন বলেন, 'গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইল যেভাবে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে, তাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদি সঠিক সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধরেও তারা হামলা চালায়, তবুও প্রশ্ন থাকে যে ইসরাইল প্রকৃতপক্ষে কোনগুলোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।'

যুক্তরাষ্ট্র,২ হাজার পাউন্ডের বোমা,সরবরাহ,ইসরাইল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত