ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইরানের সব এয়ারলাইন্স অচল করে দেয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সব এয়ারলাইন্স অচল করে দেয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আগামী বুধবার থেকে ইরানের সব বিমান সংস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এমনকি তেহরানের এয়ারলাইন্সগুলোকে সেবা দেয়া চালিয়ে গেলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। খবর- আল জাজিরার।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিএনবিসি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) থেকে বিশ্বজুড়ে সব ইরানি এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।’ এই হুঁশিয়ারির নিশানা কেবল ইরানের বিমান সংস্থাগুলোই নয়; বরং বিদেশে ফ্লাইট পরিচালনার তারা যেসব বিমানবন্দর ব্যবহার করবে, জ্বালানি সরবরাহকারী, টিকিট বিক্রয়কারী সংস্থা এবং অন্যান্য যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের সাহায্য করবে–সেসব প্রতিষ্ঠানকে ডলার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের বিমান নামলে তাদের জ্বালানি দেয়া যাবে না, ল্যান্ডিং বা অবতরণ সেবা দেয়া যাবে না এবং তাদের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। অন্যথায়, আপনাদের যুক্তরাষ্ট্রের ডলার লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বের করে দেয়া হবে।’

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে নতুন এই হুমকি দেয়া হলো।

বছরের পর বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এমনিতেই ইরানের বিমান চলাচল খাত মারাত্মক সংকটে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষে নতুন বিমান কেনা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছিল।

ইরানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নেয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে নতুন এই পদক্ষেপ নেয়া হলো। যুক্তরাষ্ট্রের এই পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার আওতায় জ্বালানি, নৌপরিবহন, প্রযুক্তি, স্বর্ণ এবং ডিজিটাল সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে ইরানের সাথে লেনদেনকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তির মুখোমুখি করার হুমকি দেয়া হয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকের আগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের কথা জানালেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। ইরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সহযোগী ও কূটনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত বেইজিং। ফলে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে চীনের সহযোগিতা মার্কিনিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বেসেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়ায় চীনের কর্মকর্তারা ‘পুরোপুরি যুক্ত’ রয়েছেন। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুসরণের বিষয়ে পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেংসহ চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যদিও চীনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। চীন বরাবরই বলে এসেছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তারা জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে। একই সঙ্গে দেশটি কোনও দেশের বিরুদ্ধে এককভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে এসেছে।

আবা/এসআর/২৬

ইরান,এয়ারলাইন্স,যুক্তরাষ্ট্র
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত