ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের আহ্বান জানালেন শাহবাজ শরিফ

জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত পেট্রোলিয়াম কর, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি ও অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ইসলামাবাদমুখী ট্রেন লংমার্চ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে এ অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশে ফিরে পেট্রোলিয়াম কর ইস্যুতে দলটির সঙ্গে অর্থবহ ও কার্যকর সংলাপে বসার প্রস্তাব দেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর এক মুখপাত্রের সূত্রে জানা গেছে, লংমার্চের অংশ হিসেবে হাফিজ নাঈমুর রহমানের নেতৃত্বে কাফেলাটি মুলতান রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোনে এই যোগাযোগ করেন। ফোনালাপে হাফিজ নাঈম প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগতম জানালেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা সরকারের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত তৈরি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশের সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছেন। তাই জনগণের আন্দোলনের অধিকারকে সরকারের সম্মান জানানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মার্চ স্থগিতের অনুরোধের বিষয়ে হাফিজ নাঈমুর রহমান জানিয়েছেন, কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারণী পরিষদ ‘মজলিস-ই-শূরা’র সাথে জরুরি পরামর্শ করা হবে। শূরা বৈঠকের পরেই সরকারের অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। তবে তিনি বলেন, যদি সরকারের বিশেষ অনুরোধে মার্চ সাময়িকভাবে স্থগিতও করা হয়, তবুও সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিবাদের অধিকার থেকে একচুলও সরে আসবে না।

এদিকে, রোববার করাচি থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেন মার্চ সোমবার রাতে তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মুলতান পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি পৌঁছালেও রেলস্টেশনে ঢল নামে হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকের। সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, সরকার ষড়যন্ত্র করে তাদের পথরোধের চেষ্টা করলেও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি তা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, করাচি থেকে মুলতান পর্যন্ত এবং বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ তাদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছে। পাঞ্জাবের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে এই কাফেলা লাহোর হয়ে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে।

সরকারের কঠোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও সড়ক অবরোধে কন্টেইনার বসানোর ইঙ্গিতের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত প্রধান বলেন, কন্টেইনার কিংবা কোনো ধরনের বাধাই এই গণজোয়ার ঠেকাতে পারবে না।

তিনি বলেন, সরকার যদি পেট্রোলিয়াম লেভির নামে জনগণের ওপর আরোপিত তথাকথিত জোরপূর্বক কর প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী কোনো অহংবোধের লড়াইয়ে নেই। সে ক্ষেত্রে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসতেও প্রস্তুত।

শাহবাজ শরিফ,লংমার্চ স্থগিত,জামায়াত
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত