
কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন—এমনকি স্বাস্থ্য ট্র্যাকিংয়েও স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্ক্রিন টাইম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে চোখের নানা সমস্যার প্রবণতা বাড়তে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন স্থায়ী বা অপূরণীয় ক্ষতি না করলেও এর অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারে চোখের আরাম, দৃষ্টিশক্তি, ঘুম এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে চোখে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলো সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
ডিজিটাল আই স্ট্রেন বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনের ছোট স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখকে অবিরাম কাছের দূরত্বে ফোকাস করতে হয়। এতে চোখের পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ডিজিটাল আই স্ট্রেন বা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম নামে পরিচিত। এই সমস্যার কারণে চোখের ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা এমনকি কখনো কখনো ডাবল ভিশনও দেখা দিতে পারে।
ড্রাই আই সমস্যা বর্তমানে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ড্রাই আই সমস্যার হার দ্রুত বাড়ছে। স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক পড়ার হার কমে যায়, ফলে চোখের স্বাভাবিক অশ্রু উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর ফলে চোখে শুষ্কতা, লালচে ভাব, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া কিংবা চোখে বালির মতো অনুভূতি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে পড়াশোনা, গাড়ি চালানো কিংবা স্ক্রিনে কাজ করায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চোখের অস্বস্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের জন্য আরেকটি বড় ঝুঁকি। এই নীল আলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে রাতে ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এর ফলে চোখের ক্লান্তি বাড়ে, ঘুমাতে দেরি হয় এবং ঘুমের মান নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে চোখের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সচেতনভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করলেই এসব চোখের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।