
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য কমপক্ষে ৬৩ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার সম্মতি দিয়েছে। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)সহ ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ৩২ জন পৃথক পর্যবেক্ষকের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এতে নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নিশ্চিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের মোট সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩৩০ জনে পৌঁছেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পোস্টে আরও জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য নিশ্চিত হওয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ১২তম, ১১তম এবং ১০তম সাধারণ নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষকের সংখ্যা যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং ৪ জন ছিল।
ওআইসি নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার দুই সদস্যের ওআইসি পর্যবেক্ষক মিশন নেতৃত্ব দেবেন।
এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরএল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রেপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ৭ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।
ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার ৩২ জন পৃথক পর্যবেক্ষক স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ করবেন। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রধান সমন্বয়কারী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মুরশেদ বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ কিছু দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য নাম নিশ্চিত করেনি।”
যেসব দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেনি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং রোমানিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার ফোরাম (ফেম্বোসা) শিগগিরই তাদের প্রতিনিধি মনোনয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রায় ২,০০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সাধারণ নির্বাচনটি জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক গণভোটের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।