অনলাইন সংস্করণ
১৮:৩৪, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা-৮ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, একটি দল আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া টাকা নির্বাচনে খরচ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটা পরিবার বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম ভণ্ডুল করে দিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন।
নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি রয়েছে অভিযোগ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আওয়ামী লীগ তো বাংলাদেশের মানুষের শেয়ার বাজার থেকে অনেকের পকেটে টাকা কেটে নিয়েছিল। ব্যাংক ডাকাতি করেছিল, লোপাট করেছিল। ক্যাশ টাকা বিভিন্ন জায়গায় তারা রেখে গিয়েছিল। অন্য একটি দল আওয়ামী লীগের যে রেখে যাওয়া সম্পত্তি, যে টাকা, এগুলো দখল করেছে অনেকে। ওই টাকাগুলো এই ইলেকশনে খরচ করছে। দেখছেন না, মিডিয়ায় এক সেকেন্ডের বাইটের পরে আরেক সেকেন্ডের "ধানের শেষে ভোট দিন" চলে আসে? মিডিয়াগুলোকে ক্রয় করা হয়েছে এবং গত এক বছরে চাঁদাবাজি করে যে ধরনের অর্থ তারা নিয়েছে, কালো বাজারির টাকা, জুয়ার টাকা, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের টাকা, আওয়ামী লীগের টাকা—এই টাকা দিয়ে এখন তারা ঢাকা-১৭তে কড়াইল বস্তিতে ভোট কিনতে যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের থেকে ভোট কিনছে এবং কার্ড দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা ১১-দলীয় জোট বলবো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, কালো টাকা, এগুলোর সাথে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই,' যোগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই মুখ্য সমন্বয়ক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিযোগিতা নয় 'অসম খেলা' হচ্ছে মন্তব্য করে পাটওয়ারী বলেন, আসলে যদি এমন হতো যে, একজন ভালো মানুষ পেয়েছি, তার সাথে ভালো কথা বলবো, ডিবেট করব, এটাকে বলা হয় প্রতিযোগিতা। আমরা ডিবেট করায় অভ্যস্ত, অর্থাৎ আমরা কীভাবে ভালো কাজ করব? এখন যে প্রার্থীর সাথে আমি পড়েছি, আসলে ডিবেট করার মতো না। একদিকে পিস্তল, আরেক দিকে মুখ, এটা কি একসাথে হয়? এটা কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়? একদিকে চাঁদাবাজির টাকা, আরেক দিকে আমার কাছে টাকা নাই। একদিকে সন্ত্রাসীবাহিনী, আরেক দিকে আমরা নিরপরাধ কয়জন। এটা তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না, এটা তো অসম খেলা! লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নাই, উনি অনেক জায়গায় সব কিছু কিনে ফেলছেন। বিভিন্ন স্কুল কমিটি, কলেজ কমিটিগুলো পকেটস্থ করেছেন। এখন ভোটের দিন চুরি করলে আমি কী করব? মানুষ বলেছে আমাকে ভোট দিবে। এটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জায়গা না, এটা হলো একজনকে ধরে এনে মারার চিন্তা করা হয়েছে। তবে জনগণ যখন সব ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আমি সাহস পেয়েছি, জনগণ মাঠে নামবে। ঢাকায় দুই লাখ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার ভোটার, এখানে যারা সন্ত্রাসী বাহিনী আছে, পাঁচ-ছয় হাজার। মানুষ তো বাকিরা আছে, সবাই যখন এদেরকে ধরবে, ওরা কোথায় যাবে,' প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ৫ তারিখের গণঅভ্যুত্থানের পরে অনেকে মনে করেছিলেন ক্ষমতায় চলে এসেছেন। ক্ষমতা কি মামার বাড়ির আবদার নাকি, যে আপনি মানুষকে পিটাবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সন্ত্রাস করবেন তারপরও আপনি ক্ষমতা পেয়ে যাবেন?
নাম উল্লেখ না করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০টি রঙিন বিলবোর্ড লাগানো যায়। ঢাকা-৮ আসনে কয়টা লাগিয়েছে আপনি হিসাব করতে পারবেন না। সব টাকার খেলা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রোগ্রাম করেছে, এটা করা নিষেধ। আমরা কয়টা অভিযোগ করব! এটা নির্বাচন কমিশন দেখবে, তারা ব্যবস্থা নেবে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশে যে সংস্কৃতিটা শুরু হয়েছে এটা বন্ধ হবে, কিন্তু তারা বন্ধ করে নাই। এখন যদি পার্লামেন্টে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী—এরা যায়, তারা তো ভালো আইন তৈরি করবে না! ভালো আইন তৈরি না করলে দেশের উন্নয়ন হবে না। আমরা আশা করি যে, বাংলাদেশের মানুষ সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিবিরোধী ১১-দলীয় জোটকে বিপুল ভোট দিবে এবং একটা ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করবে,' বলেন তিনি।
একটা পরিবার বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রম ভণ্ডুল করে দিয়েছে মন্তব্য করে এই এনসিপি নেতা বলেন, 'আমরা তো সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছিলাম! সবাই বসে বসে তৈরি করছিলাম। যখনই লন্ডন থেকে আসলো, সংস্কার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হলো।'
নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে শিক্ষার্থীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করবেন জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, 'শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, শিক্ষার্থীরা ভালো খাবার-দাবার খেতে পারে, শিক্ষার্থীরা ভালো করে ঘুমাতে পারে এবং আমরা স্কুল-কলেজে ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করব।'
পুঁজি বাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিচার করা হবে বলেও এ সময় আশ্বাস দেন তিনি।
রমনা ও শাহজাহানপুর এলাকার পানি, বিদ্যুৎ, সড়ক ও মাদক সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাটওয়ারী বলেন, 'সরকারি যে জায়গাগুলো দখল হয়েছে, আমরা সেগুলো উদ্ধার করে বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ এবং বড়দের জন্য পার্ক তৈরি করব, যাতে উনারা ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করতে পারেন।
কাঁচাবাজারগুলোকে সুশৃঙ্খল ও পলাশী মার্কেটের মতো বহুতল ভবন তৈরি; নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত; যানজট নিরসন; দূষণ রোধ, সচিবালয়কে দুর্নীতিমুক্ত; সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, 'ঢাকা-৮ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর একটি নগরী হবে, যেখানে আপনি পড়াশোনা করে মজা পাবেন, চিকিৎসা নিয়ে মজা পাবেন, চাকরি করে মজা পাবেন, ফিন্যানসিয়াল সেক্টরে জব করে মজা পাবেন—স্বপ্নভূমি তৈরি করব ইনশাআল্লাহ।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ওসমান হাদি ভাইকে যারা খুন করেছে, তাদের বিচারটা হয়নি। আমরা আজকে এই বিচার দাবি করছি, যাতে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন হয় এবং ১১-দলীয় জোট যখন আমরা ক্ষমতায় যাব, আমাদের প্রথম এজেন্ডাই থাকবে যাতে আমরা শহীদ ভাইয়ের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারি। যারা উনাকে খুন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা বাংলাদেশের মানুষের সামনে দিতে পারি।
আমরা মনে করি যে, ওসমান হাদি ভাইয়ের খুনের সাথে দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র জড়িত ছিল। সে জন্য এই খুনের বিচারটা হচ্ছে না। আমরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে আহ্বান জানাবো, গড়িমসি করবেন না। এটা আপনারা শুধু একটা জানাজার মধ্যে সম্পন্ন রাখবেন না, বিচারটা সম্পন্ন করুন, বলেন পাটওয়ারী।