অনলাইন সংস্করণ
২১:০২, ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধনের প্রস্তাবকে ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দিয়ে গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচিত সরকার এটি সংশোধন করবে।
দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম-সুশাসনের ঘাটতি দূর করতে দায়িত্ব নিয়েই মনোযোগী হয়েছিলেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এরপর থেকে বেসরকারি খাতের একাধিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও দুর্বল ব্যাংক একীভূত করাসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। যার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ এর সংশোধনের বিষয়টিও।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ এর সংশোধেনের খসড়ায় সরকারের প্রতিনিধি কমিয়ে বাড়ানো হয় স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের সংখ্যা। সেই সঙ্গে খসড়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমে গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ, জনবল নিয়োগে ব্যাংকের নীতিমালা, দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত তদারকি কাঠামো গঠন, পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব উঠে আসে। এছাড়াও সংসদীয় কমিটির কাছে জবাবদিহিতা থাকার বিষয়টিও উঠে আসে খসড়ায়।
পরবর্তীতে গত অক্টোবরে আদেশের খসড়া অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গতিহারা হয়ে যায় ফাইল। এরপর দফায় দফায় বৈঠক হলেও ফল আসেনি। অবশেষে চূড়ান্তভাবেই আটকে গেল বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ এর সংশোধনের বিষয়টি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরের কাছে দেয়া এক চিঠিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশের মতো মৌলিক আইন সংশোধনের জন্য সতর্ক পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এজন্য বিস্তারিত পর্যালোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শও প্রয়োজন। তাই অন্তর্বর্তী সরকার নয়, এমন বিষয়ে কেবল রাজনৈতিক সরকারই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।