অনলাইন সংস্করণ
২১:২৬, ০৭ মার্চ, ২০২৬
এতিম এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার প্রধানমন্ত্রী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।
এ বছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনে প্রধানমন্ত্রী শুধু কূটনীতিক এবং এতিম, আলেম-ওলামাদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করছেন। আগের দিন শুক্রবার কূটনীতিকদের সঙ্গে ইফতার করেন তিনি।
শনিবার ইফতার শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত এতিম এবং আলেম ও ওলামাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি শিশু এতিম শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ইফতার মাহফিল একটি প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এ মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।
প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কোরআন হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন আমি বিশ্বাস করি তাহলে পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা এক বুক বেদনা বুকে নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পায়।”
তিনি বলেন, ‘‘পবিত্র রামাদান ত্যাগ এবং সংযমের মাস, রহমত-বরকত সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য রামাদান মাসকে আমাদের ভেতরে কেউ কেউ লাভ-লোভের মাস হিসেবে বানিয়ে ফেলে।
পবিত্র রামাদান মাসেও যারা অশুভ পন্থা অবলম্বন করছে আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষকে কষ্ট দেবেন না।”
‘দরিদ্র বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি আমার একটি চিন্তার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, প্রতিবছর বাংলাদেশে যাকাতের পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। যাকাতের অর্থ দারিদ্র নির্বাচনে কতটুক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি মনে হয় একটি বেশ বড় প্রশ্ন। যতটুকু আমি জানি অবশ্যই এখানে বিশিষ্ট আলেম ব্যক্তিবর্গ বসে আছেন ওনাদের তুলনায় এ ব্যাপারে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত।
যতটুকু আমি জানি, যাকাত দাতাদেরকে ইসলামী বিধানে এমনভাবেই যাকাত বন্টন উৎসাহিত করে যাতে একজন যাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর যাকাত গ্রহণ করার পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করা যেন না প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পরিকল্পিতভাবে যাকাত বন্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে যাকাত একটি চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করতে পারে বাংলাদেশের দারিদ্র বিমোচনে। এমন বাস্তবতায় সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার চিন্তাভাবনা করছে। এ ব্যাপারে আজকে এখানে যারা বিশিষ্ট আলেম ব্যক্তিগত উপস্থিত আছেন আপনাদের সহযোগিতা ব্যক্তিগতভাবে আমি কামনা করছি।”
তিনি বলেন, ‘‘ধনী-দরিদ্র সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটির মত। এসব পরিবারগুলোর মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে আমরা ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা যাকাত দিতে পারি (তাহলে) আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি এসব পরিবারের মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারগুলোকে হয়তো পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে।’’
‘‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি যাকাত দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বহুলাংশে দারিদ্র বিমোচন সম্ভব বা দারিদ্র বিমোচন যে কর্মসূচি আছে সেটিকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’’
দারিদ্র বিমোচনে যাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যৌক্তিক মনে হলে এ বিষয়ে বিত্তবানদের সচেতন করতে আলেম-ওলেমাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন’
তারেক রহমান বলেন, ‘‘যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেম-ওলেমা, ইসলামিক পণ্ডিত এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান যাকাত বোর্ডকে নিশ্চয়ই আমরা পুনগর্ঠন করতে পারব।
‘‘এই যাকাতকে দারিদ্র বিমোচনের ব্যবহার করে ইসলামিক বিশ্বে বাংলাদেশকে অবশ্যই একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।”
ইফতারে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জ্বল হোসেন কায়কোবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমেদুল্লাহ এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বক্তব্য রাখেন।