ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

সময়সীমা শেষ হলেও ডাকা হয়নি ‌‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন

সময়সীমা শেষ হলেও ডাকা হয়নি ‌‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জারি করা প্রেসিডেনশিয়াল আদেশ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আজ সেই ৩০তম পঞ্জিকা দিবস এবং এর সময়সীমা আজকেই শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।

রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি সংবিধান সংস্কারের আইনি বাধ্যবাধকতা ও বর্তমান স্থবিরতা তুলে ধরেন।

সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করছেন জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি একটি প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে এসেছে, যা ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা হয়। এই অর্ডারের ১৫টি নির্দেশিকার মধ্যে ৩ থেকে ১৫ নম্বর বিষয়গুলো জুলাই সনদ এবং গণভোটের সাথে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, অর্ডারের ১০ নম্বর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে— সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হবে, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করা হবে। আমার কনসার্নের বিষয়টা এখানেই। আজকে ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। আমরা ধরে নিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদের এই সভা আহ্বান করেছেন। অর্ডারে পরিষ্কার বলা আছে, যে পদ্ধতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হবে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও ডাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আদেশের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ “হ্যাঁ” ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে। আদেশে বলা ছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট “হ্যাঁ” সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। মাননীয় স্পিকার, এটি হয়নি এবং এর সময়সীমা আজকে শেষ।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন— আমরা এই সুযোগ পেতে চাই। আদেশের তফসিল অনুযায়ী, আমরা ৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর একই অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছি এবং অনুরূপ শপথপত্রে স্বাক্ষর দান করেছি।

তিনি বলেন, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। কিন্তু কাজ তো আগে শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্ত! পরিষদের কর্মধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দু’টি ক্যাপাসিটিতে (পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য) কাজ করবেন।

ডা. শফিকুর রহমান অবিলম্বে প্রেসিডেনশিয়াল আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার জন্য সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান,সংবিধান সংস্কার পরিষদ,বিরোধীদলীয় নেতা,ডা. শফিকুর রহমান,গণভোট
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত