প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৬ মার্চ, ২০২৬
সামর্থবানদের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। ঈদুল ফিতর নামাজের আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ (প্রয়োজন অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা কিংবা সমপরিমাণ ব্যবসায়ী পণ্য বা নগদ অর্থের মালিক) সম্পদের মালিক পরিবারের পক্ষ থেকে সদকা দেবে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রোজার ছোটখাট ভুলত্রুটির ক্ষমা ও সমাজের দরিদ্র মানুষও যেন ঈদ উৎসবে অংশ নিতে পারেন, এ কারণেই ফিতরার বিধান রাখা হয়েছে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মোট চারটি পণ্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো- খেজুর, কিশমিশ, যব ও পনির। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা (৩.৩ কেজি প্রায়) খাদ্য দিয়ে সদকা আদায় করতাম। আর তখন আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৮২)। অন্য হাদিসে অর্ধ সা (১.৬৫ কেজি প্রায়) গমের কথা বর্ণিত হয়েছে। উল্লিখিত খাবারগুলোর মধ্য থেকে যে কোনো একটি দিয়ে বর্ণিত পরিমাণ অনুযায়ী দান করলে সর্বসম্মতিক্রমে ফিতরা আদায় যাবে। তবে সরাসরি খাদ্য না দিয়ে তার বাজারমূল্য দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ইমামদের মতানৈক্য আছে। ইমাম মালিক, শাফি ও আহমদ (রহ.)-এর মতে, ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে বাজারমূল্য দেওয়া যাবে না। সরাসরি খাদ্যপণ্য দিতে হবে। (আল মুগনি, কিতাবুল ফুরু)। ইমাম আবু হানিফাসহ হানাফি মাজহাবের সব ফকিহ, হাসান বসরি, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ, ইমাম বুখারি (রহ.)সহ অসংখ্য ইমামের মতে, হাদিসে বর্ণিত খাদ্যদ্রব্যসমূহের বাজারমূল্য দিয়েও ফিতরা আদায় করা যাবে। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় তা উত্তম।
মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) ইয়েমেন বাসীদের বললেন, ‘তোমরা যব ও ভুট্টার পরিবর্তে চাদর বা পরিধেয় বস্ত্র আমার কাছে সদকা হিসেবে নিয়ে এসো। ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদিনায় নবী (সা.)-এর সাহাবিদের জন্যও উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৯৪)। ইমাম বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ উমদাতুল কারিতে বলেন, ‘মূল্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর দেওয়া জায়েজ হওয়ার সপক্ষে এই বর্ণনা আমাদের ইমামদের দলিল। হানাফি মাজহাবের সঙ্গে অনেক মাসয়ালা ইমাম বুখারির মতানৈক্য থাকলেও এক্ষেত্রে তিনি হানাফি মাজহাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। (উমদাতুল কারি, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৪)। তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে কোনো সমস্যা নেই।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ১০৪৭১)। তাবেয়ি আবু ইসহাক (রহ.) বলেন, ‘আমি তাদের (সাহাবা-তাবেয়িগণকে) খাবারের মূল্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ১০৪৭২)। সদকাতুল ফিতরের একটি উদ্দেশ্য মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করা। নগদ অর্থের মাধ্যমেও দরিদ্র ব্যক্তিরা প্রয়োজনমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে। সাহাবি-তাবেয়িদের উপরোক্ত মতামতের আলোকে হানাফি মাজহাবের ইমামগণসহ আরও অনেক ইসলামি স্কলার বলেন, বাজারমূল্য বা টাকা দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েজ। এতে কোনো অসুবিধে নেই। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও ভালো। কারণ, ফিতরা গ্রহীতা নিজের মতো করে প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। (আলমাবসুত, সারাখসি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২০৫)।