ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কোন রাতে শবেকদর কী আমল করবেন

আব্দুস সালাম আব্দুল্লাহ
কোন রাতে শবেকদর কী আমল করবেন

হিজরি ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি রাত আছে, যে রাতের মূল্য আল্লাহর কাছে হাজারো মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ ৮৩ বছরেরও বেশি সময় থেকে উত্তম। এ রাতে ইবাদত করতে পারা ৮৩ বছরেরও বেশি সময় ইবাদত করার মতো। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কী জান? কদরের রাত হাজারো মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল আ.) অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তি বিরাজ করে ভোর হওয়া পর্যন্ত।’ (সুরা কদর : ১-৫)।

শবেকদর কী : আরবি লাইলাতুন অর্থ রাত। আর কদর অর্থ নির্ধারণ করা বা মর্যাদা। লাইলাতুল কদরের অর্থ নির্ধারণের রাত বা মর্যাদার রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের আগামী এক বছরের ভাগ্যলিপি ফেরেশতাদের হাতে অর্পণ করেন। যারা নিজের গুনাহের কারণে মূল্যহীন ছিল, তারা এ রাতে ইবাদত আর তওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে উঁচু মর্যাদার অধিকারী হন বলেই এ রাতের নাম রাখা হয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’। (মাদারিকুত তানজিল, ৩/৬৬৫)।

ফেরেশতারা করেন রহমতের দোয়া : বছরে একবার আসে এ রাত। বরকতময় এ রাত ইবাদতে কাটানো মুমিন বান্দার ইমানি দায়িত্ব। এ রাতে নামাজ আদায়কারীর জন্য ফেরেশতারা রহমতের দোয়া করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদরে জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (শুয়াবুল ইমান, বাইহাকি, ৩৪২১)।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এ রাতের ইবাদত অন্য হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’। (তাফসিরে ইবনে আব্বাস, পৃষ্ঠা : ৬৫৪)। এর ভাবার্থ হলো, ‘এ রাতের ইবাদত, তেলাওয়াত, কিয়াম (নামাজ পড়া) ও অন্যান্য আমল হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম।’ (ইবনে কাসির, ১৮/২২৩)।

শবেকদর কবে : অনেকের ধারণা, রমজানের ২৭ তারিখ শবেকদর। তবে কোরআন-হাদিসের কোথায় ২৭ তারিখের রাতকে শবেকদর হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়নি। হাদিসে বলা হয়েছে, রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোর একটি রাত শবেকদর। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (বোখারি : ১১৫৬)।

যে রাতটি লাইলাতুল কদর হবে, সেটি বোঝার কিছু আলামত হাদিসে বর্ণিত আছে। সেগুলো হলো-

এ রাতটি রমজান মাসে।

রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত। (মুসলিম : ১১৬৫)।রমজানের শেষ সাত দিনে এ রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। (বোখারি : ২০১৫)।

২১, ২৩, ২৫ অধবা ২৯তম রাতও লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের রাত বা ২৭তম রাত কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। (মুসলিম : ৭৬২)। রাতের আবহাওয়া হবে নাতিশীতোষ্ণ। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না। মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে। সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।

কোনো ইমানদারকে আল্লাহ স্বপ্নে এ রাতের কথা জানিয়েও দিতে পারেন। ওই রাতে বৃষ্টিও হতে পারে। (মুসনাদে আহমাদ : ২০৯৩০)।সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। (ইবনে খুজাইমা, ২১৯১)।

শবেকদরের আমল : মহাসৌভাগ্যের এ রাতটি কীভাবে কাটাতে হবে, কীভাবে পাব, কীভাবে সেটাকে আমরা অধিকার করব, এর পথ হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলে দিয়েছেন। তিনি রমজানের শেষ দশকে কদরের রাত পাওয়ার জন্য ইতেকাফ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি যদি লাইলাতুল কদরকে লাভ করতে চাও, তার সমূহ কল্যাণ তোমার জীবনে তুলে আনতে চাও; তাহলে সহজ পথ হচ্ছে ইতেকাফ করো।’

এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির এবং বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ রাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা পছন্দ করেন। তাই আমাকে ক্ষমা করুন। (তিরমিজি : ৩৫১৩)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত