
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশ স্বৈরতন্ত্রের কবলে ছিল। এসময় ছিলনা মানুষের বাক স্বাধীনতা, সংসদীয় সরকার ও আইনের শাসন। পরিবতর্তিত নতুন পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে আপনারা (সাংবাদিক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনারা গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে যোদ্ধা হতে পারেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, আপনারা তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) পাশে থাকতে পারেন উনি যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো কাজ করবেন। আমি যদি ভালো কাজ করি তাহলে পাশে থাকবেন এবং আমি যদি মন্দ কাজ করি বা অসুবিধা সৃষ্টি করি তাহলে যৌক্তিক সমালোচনা করবেন এবং আমার ভুল ধরিয়ে দিবেন। আর সব মানুষেরই ভুল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনারা একজন যোদ্ধা। মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার এই যুদ্ধে আপনারা শরীক হয়ে হয়ত (ব্যক্তিগতভাবে) কিছুই পাবেন না কিন্তু কেয়ামতের মাঠে আল্লাহর কাছে তো বলতে পারবে যে আমি ওই যুদ্ধের একজন সদস্য (ছিলাম)।
বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করার পরও দুই মাসের মাঝেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বাস্তবায়নসহ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা ৭টি বাজেটের সমপরিমাণ টাকা এদেশ থেকে পাচার করেছে।
তিনি আরও বলেন, ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কথা আপনারা সবাই জানেন। অভাবের তাড়নায় মানুষ অপর মানুষের বমি খেয়েছে। এরকম অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করে ৩ বছরের মাঝে খাদ্যে স্বাবলম্বী হয়ে বাংলাদেশ থেকে খাদ্য রপ্তানি করেন। এরপর বেগম জিয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি হাতে নিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাবা-মায়ের দেখানো পথে হাটছেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং মো. আখতারুজ্জামান মিয়া অংশগ্রহণ করেন।
গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার নগর সম্পাদক মোরসালিন নোমানী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রচার ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সহজীকরণ, গণমাধ্যম প্রতিনিধিগণের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। একই সাথে সিনিয়র সাংবাদিকগণ চলমান নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সভায় সংসদ বিটে দায়িত্বপালনকারী সাংবাদিকবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।